ভোট দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা; জিতবেন একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট, নয়ত বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট। ভোটের ফল যাই হোক, তার সুদুরপ্রসারী প্রভাব থাকবে বিশ্বজুড়ে।
রাজনীতির ক্যারিয়ারে খাদের কিনার থেকে উঠে আসা সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যদি মঙ্গলবারের ভোটে জিতে যান, তাহলে সেটা হবে একবার হেরে যাওয়ার পর দ্বিতীয় চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা।
আর ভোটারদের রায় যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের পক্ষে যায়, তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এবারের নির্বাচনের মত বিভক্তি অতীতে কমই দেখা গেছে । ভোটারদের মধ্যে প্রধান দুই প্রার্থীর জনসমর্থন নারী ও পুরুষ দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। নারীদের মধ্যে বেশি সমর্থন কুড়িয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিস। আর পুরুষদের মধ্যে রিপাবলিকান ডনাল্ড ট্রাম্প।
আবার হিসপ্যানিক ও শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের সমর্থনলাভের ধারাও এবার বদলে যেতে দেখা গেছে। যে হিসপ্যানিকদের সমর্থন ডেমোক্র্যাটরা সবসময়ই বেশি পেয়ে এসেছে, এবার তা বিশেষতঃ পুরুষদের মধ্যে ঘুরে গেছে ট্রাম্পের দিকে। আবার যে শ্বেতাঙ্গদের সমর্থন রিপাবলিকানরা বেশি পেয়ে এসেছে, এবার তা নারীদের মধ্যে ঘুরে গেছে হ্যারিসের দিকে।
বিভিন্ন জনমত জরিপ, এমনকি জয়-পরাজয় নির্ধারণী দোদুল্যমান রাজ্যগুলোর জরিপেও জনসমর্থনের দিক থেকে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান খুবই কম। অধিকাংশ জনমত জরিপেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
মাত্রার দিক থেকে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগের দুই নির্বাচনকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভোটের ফল পক্ষে না গেলে ট্রাম্প যদি গতবারের মত বেঁকে বসেন, তাতে শেষ পর্যন্ত ‘হ য ব র ল’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার শঙ্কাও বাদ দিতে পারছেন না বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং সহিংসতার হুমকি থাকার পরও মঙ্গলবার নিরাপদেই ভোটগ্রহণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তারপরও অভাবনীয় কিছু ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা তো সব সময় থেকেই যায়।

0 Comments