সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground)। ফাইল ছবি
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground) একটি গভীর সমুদ্রখাদ বা সাবমেরিন ক্যানিয়ন। যা বাংলায় ‘নিশ্ছিদ্র গভীরতা’ বা ‘নির্ভূমি গহ্বর’ নামে পরিচিত। একটি অনন্য ভূগর্ভস্থ বৈশিষ্ট্য, যা বঙ্গোপসাগরের উত্তরপূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত। সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড শুধু বঙ্গোপসাগরের একটি গভীর অঞ্চল নয়, এটি বাংলাদেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বাংলাদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের উত্তরপূর্ব অংশে অবস্থিত। এটি সুন্দরবনের কাছাকাছি অবস্থিত এবং সাগরের গভীরতার কারণে সমুদ্র জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড একটি সাবমেরিন ক্যানিয়ন, যা মূলত প্লেট টেকটোনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। এর চারপাশে সমুদ্রতল ঢালু এবং অসমতল। এর গভীরতা প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৫০০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর প্রস্থ প্রায় ১৪ কিলোমিটার এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড একটি সাবমেরিন ক্যানিয়ন, যা মূলত প্লেট টেকটোনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে (লাল চিহ্ন)। ফাইল ছবি
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে ভ্রমণ অথবা গবেষণার জন্য ক্লিক করুন
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের গুরুত্ব
জীববৈচিত্র্য ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের দিক থেকে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলটি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। ডলফিন, তিমি, হাঙর, এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এখানকার বাসিন্দা। এখানে প্ল্যাঙ্কটন এবং ছোট ছোট সামুদ্রিক প্রাণী প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, যা বড় প্রাণীদের খাদ্য হিসেবে কাজ করে।
শুধু তাই নয়, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড পরিযায়ী প্রাণীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতি বছর অনেক পরিযায়ী পাখি এবং সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী এই অঞ্চলে ভ্রমণ করে। জায়গাটি সমুদ্রবিজ্ঞানীদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার ক্ষেত্র। এখানে সমুদ্রের গভীর অংশের পরিবেশ এবং জীবনের বৈচিত্র্য সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যায়। এই অঞ্চলটি কার্বন চক্র এবং সমুদ্রের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করে। বঙ্গোপসাগরের স্রোত এবং বায়ুপ্রবাহ এই অঞ্চলের জলবায়ুর ওপর প্রভাব ফেলে।
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড মাছ ধরার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রচুর পরিমাণে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাছ পাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত মাছ ধরা, জলযান চলাচল, এবং অপরিকল্পিত তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এখানকার পরিবেশের জন্য হুমকি। এমনকি প্লাস্টিক দূষণ এবং রাসায়নিক বর্জ্য এই অঞ্চলের সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
বাংলাদেশের জন্য সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের গুরুত্ব
প্রাকৃতিক সম্পদ: এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এখানে সম্ভাব্য তেল ও গ্যাসের মজুদ রয়েছে।
মৎস্যশিল্প: দেশের অর্থনীতিতে মৎস্যসম্পদের অবদান বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ: এটি সুন্দরবনের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় সুন্দরবনের প্রাণীকুল এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
#Swatchofnoground #bangladesh #merinprotectedarea #sundarban #bayofbengal #whatisgoingonbangladesh

0 Comments