“যে মাঠে খেলে আজ জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছি, মাঠটির অবস্থা খুবই বাজে। নতুন আরও খেলোয়াড় তৈরিতে মাঠটির সংস্কার প্রয়োজন”, বলেন ঋতুপর্ণা চাকমা।
সাফজয়ী দলের অন্যতম সদস্য পাহাড়ের তিন কন্যা ঋতুপর্ণা চাকমা, রূপনা চাকমা ও মনিকা চাকমাকে রাঙামাটিতে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনসহ সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাঙামাটি চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে ফুলেল শুভেচ্ছা ও করতালির মাধ্যমে এই তিন ফুটবলারকে বরণ করে নেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রত্যেক খেলোয়াড়কে এক লাখ টাকা এবং পৌরসভা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার তুলে দেন রাঙামাটি সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শওকত ওসমান।
সকাল ১০টায় ঋতুপর্ণা-রূপনাদের আঁতুড়ঘর ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে কৃতী এই তিন ফুটবলারকে নিয়ে মোটর শোভাযাত্রা রাঙামাটি শহরের দিকে যাত্রা করে। পাহাড়ি আঁকা-বাঁকা উঁচুনীচু সড়কের পথ ধরে ব্যান্ড পার্টির তালে তালে শোভাযাত্রাটি শহরের দিকে এগোতে থাকে।
এ সময় খোলা ট্রাকে তিন ফুটবলার হাত নেড়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। শহরের প্রবেশমুখ ভেদভেদীতে প্রবেশ করে রাঙাপানি-আসামবস্তি-তবলছড়ি-বনরূপা সড়ক হয়ে শোভাযাত্রাটি চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে এসে সংবর্ধনাস্থলে যোগ দেয়। এরপর জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা।
শুরুতে তিন ফুটবলারের ভিডিও ডকুমেন্টরি প্রদর্শন করা হয়। ডকুমেন্টরি প্রদর্শন শেষে জেলা প্রশাসন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, রাঙামাটি রিজিয়ন, জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ বিভিন্ন ক্লাব, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা তিন ফুটবলারকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও রূপনা চাকমা ছাড়াও ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চন্দ্রা দেওয়ান, মঘাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বীরসেন চাকমা, বর্মাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধারশমনি চাকমা, প্রশিক্ষক শান্তিমনি চাকমা, ফিফা রেফারি জয়া চাকমাকেও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
ঋতুপর্ণা চাকমা বলেন, “সাফ জয়ের পর দেশে ফিরলে, রাঙামাটি থেকে সবাই ফোন করে জানতে চায়, কখন বাড়ি আসব। তারা আমাদের অপেক্ষায়। নিজ জেলায় এমন সংবর্ধনা সত্যিই ভাগ্যের বিষয়। আমরা তিনজনই খুব খুশি। এভাবে আপনাদের ভালোবাসা পেলে দেশের জন্য আরও ভালো খেলতে পারব।
“তবে আমরা যে মাঠে খেলে আজ জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছি, বর্তমানে মাঠটির অবস্থা খুবই বাজে। তাই চাইব নতুন নারী খেলোয়াড় তৈরিতে এই মাঠটির সংস্কার প্রয়োজন।”
মনিকা চাকমা বলেন, “এত আয়োজন দেখে খুব ভালো লাগছে। আমরা চেষ্টা করব, আরও ভালো খেলার। তবে মনে অনেক কষ্ট। আমাদের বিদ্যালয়টি এখানো জাতীয়করণ করা হয়নি। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হলে নতুন নতুন নারী ফুটবলার তৈরি হত।”
রাঙামাটির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শওকত ওসমান বলেন, পরিশ্রম করলে সর্বোচ্চ শিখরে যাওয়া যায়, সেটা এই তিন ফুটবলারকে দেখে যুব সমাজ শিখতে পারে। তাদের এমন সাফল্য দেখে সবাই শিক্ষা নিতে পারি।

এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ-পরিস্থিতি বজায় থাকলে এই ধরনের আরও কৃতী খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান বলেন, “এই তিন ফুটবলার পাহাড়ের গর্ব। তাদেরকে সংবর্ধনা দিতে পেরে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত। আমরা তাদের পরিবারের পাশে সবসময় থাকব।”
তিনি বলেন, রাঙামাটিতে একটি বিকেএসপি একাডেমি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। এটি শেষ হলে শুধু নারী ফুটবলার না পুরুষ ফুটবলারও বের হবে এই অঞ্চল থেকে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক মামুনুর রশিদ, সাবেক মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিরূপা দেওয়ান এবং ফিফা রেফারি জয়া চাকমা।
সম্প্রতি নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন রাঙামাটির কাউখালীর ঋতুপর্ণা চাকমা, টুর্নামেন্টে সেরা গোলকিপার নানিয়ারচর উপজেলার রূপনা চাকমা এবং এই দলের সদস্য মনিকা চাকমার বাড়ি খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায়।

0 Comments