রাতের আকাশে আজ দেখা মিলবে সুপারমুন। ফাইল ছবি
রাতের আকাশে আজ দেখা মিলবে সুপারমুন। বিশ্বব্যাপী অনেকেই ‘বিভার মুন’ (Beaver Moon) দেখার জন্য মুখিয়ে আছে। এই পূর্ণিমাটি বিশেষ, কারণ এটি চলতি বছরের পরপর চারটি সুপারমুনের একটি। বছরের শেষ এই সুপারমুন স্বাভাবিকের চেয়ে বড় এবং উজ্জ্বল হবে বলে জানিয়েছে নাসা।
বাংলাদেশের আকাশে আজ ১৫ নভেম্বর রাত ৩টা ২৮ মিনিটে সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে বিভার মুন। তবে বিষয়টি আকাশ পরিষ্কার থাকা সাপেক্ষে।
আগস্টের ব্লু মুন, সেপ্টেম্বরের হারভেস্ট মুন এবং অক্টোবরের হান্টার’স মুনের পর এই সুপারমুন বছরের শেষ মুন। ধীরে ধীরে ঠান্ডা বাড়তে শুরু করলে এটি মূলত দেখা যায় বলে অনেক অঞ্চলে একে শীতের আগমন হিসেবেও গণ্য করা হয়।
নাসার প্রতিবেদন অনুসারে, টানা এক বা দুই দিন পুরো চাঁদ দেখা যাবে। তাই ক্যালেন্ডারে ১৪ থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত বিভার মুন দেখা যাবে। এছাড়া আরও জানানো হয়েছে, বিভার মুনের সঙ্গে সুন্দর প্লেইয়েডস স্টার ক্লাস্টার দেখা যাবে। টরাস নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত এটি 'সেভেন সিস্টার্স' নামেও পরিচিত। এছাড়া আকাশে দেখা যাবে বুধ, শুক্র, শনি এবং বৃহস্পতি গ্রহ।
সুপার মুন আসলে কী?
‘সুপারমুন’ শব্দটি ১৯৭৯ সালে অ্যাস্ট্রোলজার রিচার্ড নোল জনপ্রিয় করেন। পৃথিবীর কক্ষপথের সবচেয়ে কাছের বিন্দুতে পূর্ণিমার চাঁদ এলে সুপারমুন দেখা যায় বলে জানিয়েছে নাসা। এর ফলে চাঁদকে আকাশে বড় এবং উজ্জ্বল দেখায়। এটি সাধারণ আকাশে দেখা যাওয়া চাঁদের চেয়ে ১৪% বড় হয় এবং ৩০% বেশি উজ্জ্বল হয়।
কেন একে বিভার মুন বলে?
আমেরিকার বিভার প্রাণী থেকে ‘বিভার মুন’ নামটি এসেছে। বছরের এই সময়ে বিভাররা তাদের দাঁত দিয়ে কাঠ কেটে শীতকালীন বাঁধ নির্মাণ করে। সেই ঐতিহ্য থেকে এই নাম এসেছে বলে মনে করা হয়।
এবিসি নিউজের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, শীতের জন্য খাবার মজুদ করার পর বিভাররা আশ্রয় নিতে শুরু করে। বিভার মুন ছাড়াও এই পূর্ণিমার কিছু বিকল্প নামও রয়েছে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপর নির্ভর করে অনেকে একে ‘ফ্রস্ট মুন’ (Frost Moon) এবং ‘ডিয়ার রুটিং মুন’ (Deer Rutting Moon) বলে। যেহেতু উত্তর আমেরিকার উত্তরপূর্ব অঞ্চলে এই পূর্ণিমার পরপরই তুষারপাতের সূচনা হয় তাই এরকম নাম দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে

0 Comments