কথা হলো উত্তরা কাঁচাবাজারের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী আপন ব্রয়লারের মালিক মোহাম্মদ সুজনের সঙ্গে।
তিনি বলেন, 'হাঁসের মতো জলচর পাখিরা প্রাকৃতিকভাবেই চর্বিযুক্ত হয়। তাদের পেশী আর চামড়ার নিচে চর্বির স্তর থাকে। মূলত শীতকালে পানিতে ভেসে থাকার সময় শরীর উষ্ণ রাখতেই প্রকৃতির এই ব্যবস্থা। সে কারণেই শীতকালকে হাঁসের মৌসুম বলেও ডাকা হয়।'
ঢাকার বাজারগুলোয় দুই ধরনের হাঁস দেখা যায়। একটা হলো বাণিজ্যিক খামারে চাষ করা, যাকে বলা হয় চাষের হাঁস। অন্যটি গ্রামের বাড়িতে স্থানীয় খাবার খেয়ে বড় হওয়া দেশি হাঁস।
সুজন বলেন, 'আমার দোকানে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে হাঁস আনি। যেখানে স্থানীয় নারীরা তাদের গৃহস্থালীতেই ২০-৩০টি করে হাঁস-মুরগি পালেন। সকালে এসব হাঁস-মুরগিগুলো খাঁচা বা তাদের জন্য নির্ধারিত ঘর থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর সেগুলো নিজেরাই ঘুরে ঘুরে খাবার খুঁজে খায়।'
যেহেতু হাঁস প্রকৃতি থেকেই তার খাবার সংগ্রহ করে তাই তারা পুকুর বা কোনো জলাধার থেকে ছোট পোকা, শামুক, বিভিন্ন গাছের শিকড়, ব্যাঙ, পোকামাকড়, ছোট মাছ ইত্যাদি খাবার নিজেরাই খুঁজে খুঁটে খায়। প্রাকৃতিকভাবে সংগ্রহ করা এসব খাবার তাদের শক্তপোক্ত করে।
অন্যদিকে, খামারে যে হাঁসের চাষ করা হয় সেগুলোকে খাওয়ানো হয় ফার্ম ফিড বা ব্রয়লার ফিড। যেগুলো খাওয়ার ফলে এসব হাঁসের মাংস তুলনামূলক নরম হয়।
সাধারণত বাংলাদেশের মানুষ শীতকালে চর্বিযুক্ত শক্ত হাড়-মাংসের দেশি হাঁসের মাংসই খেতে বেশি পছন্দ করে।
সে কারণেই ঢাকার বাজারে দেশি হাঁস বা রাজহাঁসের চাহিদা বেশি, যা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, দাম প্রতিদিন ওঠানামা করে। এই রকম দামের একটি হাঁসের ওজন হয় প্রায় ৪ কেজি, যা প্রায় ২০ জন মানুষ খেতে পারে।

0 Comments