ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিদের মধ্যে অনেকে পশ্চিম তীরে গেছে। আর বেশিরভাগই গাজায় পৌঁছেছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস আরও তিনজন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। শনিবার আন্তর্জাতিক সংস্থা রেডক্রসের মাধ্যমে তাদেরকে ইসরায়েলের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এর বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগার থেকে ৩৬৯ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে পশ্চিম তীরে গেছে। আর বেশিরভাগই গাজায় যাচ্ছে। ফিলিস্তিনি বন্দিদের বহনকারী বাসেএরই মধ্যে গাজায় পৌঁছেছে।
তাদেরকে স্বাগত জানাতে গাজার খান ইউনিসে জড়ো হয়েছেন স্বজনরা। বাসের জানালা দিয়ে ঝুঁকে তাদের দিকে হাত নাড়ছেন মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিরা। ছয় মাস আগে ইসরায়েলের হাতে আটক বাবাকে ফিরিয়ে নিতে আসা এক নারী বলেন, “তিনি আমার প্রিয়জন। আমার সমস্ত দুনিয়া।”
“আমি ছোট থাকতেই আমার মা মারা যান। এরপর তার (বাবা) কাছেই বড় হয়েছি। আর ইসরায়েলিরা তাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে গেছে। আজ আমি খুবই আনন্দ বোধ করছি। জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।”
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩৩৩ ফিলিস্তিনি বন্দি ফেরত এসেছে বলে জানিয়েছেন বিবিসি’র এক সাংবাদিক। ওদিকে, ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরেও দেখা গেছে মুক্ত ফিলিস্তিনিদের নিয়ে রামাল্লায় পৌঁছেছে বাস। তাদের স্বাগত জানাতে জড়ো হয়েছে মানুষ। তাদের কারো কারো হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা।

ছবি: রয়টার্স
ফিরে আসা এক ফিলিস্তিনি বলেন, “আমরা কখনও মুক্ত হতে পারব বলে আশা করিনি। আল্লাহ মহান। তিনি আমাদেরকে মুক্ত করেছেন।” পশ্চিম তীরে এক ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করার কারণে এই ফিলিস্তিনি দুই মেয়াদে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছিলেন। তিনি ফিলিস্তিনের আল-আকসা মার্টার্স ব্রিগেডের সাবেক কমান্ডার।
মুক্তি পাওয়া আরেক ফিলিস্তিনি বলেন, “এখন আমরা একটু শ্বাস নিতে পারছি।” এই ফিলিস্তিনিদের মুক্তির আগে হামাস আমেরিকান-ইসরায়েলি ইয়াইর হর্ন এবং রাশিয়ান-ইসরায়েলি সাগুই দেকেল-শেন ও সাশা ত্রুফানভ নামের তিন ইসারয়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেয়।
এর কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলের কারাগার থেকে বন্দি ফিলিস্তিনিদের নিয়ে বাস যায় পশ্চিম তীর ও গাজায়। প্রথম ধাপে ছয় সপ্তাহের (৪২ দিন) যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার যে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় হামাস ফের তিন জিম্মিকে মুক্তি দিতে রাজি হওয়ায় তা কেটে যায়। তারপরই হল এ বন্দিবিনিময়।
গত ১৯ জানুয়ারি থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। এর পর থেকে ছয়বার ইসরায়েলি জিম্মি ও ফিলিস্তিনি বন্দী বিনিময় হয়েছে। শনিবার তিনজনসহ এ পর্যন্ত মোট ১৯ জন জিম্মি মুক্তি পেয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৩৩ জন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা হামাসের।

ছবি: রয়টার্স
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা সংলগ্ন কিবুতজ নির ওজ এলাকায় হামলা চালানোর সময় ইসরায়েলিদেরকে ধরে নিয়ে গিয়ে জিম্মি করেছিল হামাস। হামাস ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হুমকিতে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সদ্যই ভেস্তে যেতে বসেছিল।
ইসরায়েল গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিয়ে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে- এমন অভিযোগ তুলে হামাস আর কোনও জিম্মিকে মুক্তি না দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। এর পাল্টায় ইসরায়েলও ফের যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিয়ে রিজার্ভ সেনা তলব ও সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে সরিয়ে ছিটমহলটি তাদের কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানানোর পরও যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্পের প্রস্তাব ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী এবং আরব দেশগুলো এরই মধ্যে শক্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
শনিবারের আগে হামাস ৩৩ জন জিম্মির মধ্যে ১৬ জনকে মুক্তি দিয়েছিল, যাদের মধ্যে পাঁচজন থাই নাগরিকও ছিল। এরপর গাজায় এখনও ৭৬ জন জিম্মি রয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে।

0 Comments