গবেষণায় একুশে পদক ২০২৫ প্রাপ্ত বগুড়ার কৃতি সন্তান মঈদুল হাসান: জীবন ও সাহিত্যকর্ম

 

গবেষণায় একুশে পদক ২০২৫ প্রাপ্ত বগুড়ার কৃতি সন্তান মঈদুল হাসান: জীবন ও সাহিত্যকর্ম 

পুরস্কার





মঈদুল হাসান জন্ম বগুড়ায়, ২৯ জুলাই ১৯৩৬। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী থাকাকালীন তখনকার জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাক-এর সম্পাদকীয়তে লেখালেখি শুরু করেন। তাঁর লেখায় ছিল পূর্ববাংলার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ধারার গভীর পর্যবেক্ষণ। একাত্তর সালে প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, জনপ্রিয় ও কালজয়ী বই মূলধারা '৭১ (ইউপিএল, ১৯৮৬) এবং উপধারা একাত্তর: মার্চ-এপ্রিল (প্রথমা, ২০১৫)-এর লেখক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৫৬ সালে ভর্তি হয়ে মঈদুল হাসান সমাজ, ইতিহাস ও দর্শন বিষয়ে গভীর আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি শিক্ষার আনুষ্ঠানিক পরিসরের বাইরেও বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানার্জনে মনোযোগী ছিলেন। বিশেষ করে পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তার গভীর পর্যবেক্ষণ তাকে ভবিষ্যতে একজন প্রাজ্ঞ লেখক ও গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

সাংসারিক জীবনে মঈদুল হাসান একজন সাদামাটা ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি। তার পারিবারিক জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সর্বসাধারণের জন্য সহজলভ্য নয়, কারণ তিনি ব্যক্তিগত জীবনকে গণমাধ্যমের আলোচনার বাইরে রাখতে পছন্দ করতেন। তবে তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি একজন স্নেহশীল ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

মঈদুল হাসান একজন বাংলাদেশী লেখক এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।

জন্ম এবং ছেলেবেলা

[সম্পাদনা]

মঈদুল হাসান ১৯৩৬ সালের ২৯ জুলাই, বাংলা ১৪ শ্রাবণ, ১৩৪৩ সালে বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই শৈশব কাটে তার।

পড়াশোনা এবং কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

মঈদুল হাসান পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার ভর্তির সাল ছিল ১৯৫৬। ১৯৬০ সালের দিকে শেষ বর্ষের ছাত্র অবস্থায় তিনি সে সময়ের বহু প্রচারিত দৈনিক ইত্তেফাক-এ সম্পাদকীয় লেখা শুরু করেন। এতে করে তিনি পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গতিধারা পর্যবেক্ষণ করেন গভীরভাবে।[]

মুক্তিযুদ্ধে অবদান

[সম্পাদনা]

সাংবাদিকতা ছেড়ে দিয়ে মঈদুল হাসান একসময় সম্পাদকীয় লেখা একরকম বন্ধ করে দেন। ছয় বছর পর তিনি ১৯৭১ সালে প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পালন করেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মুজিবনগর সরকারের পক্ষে ভারতের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ছিল তার অন্যতম দায়িত্ব। উপধারা একাত্তর: মার্চ-এপ্রিল থেকে কিছু কথা উদ্ধৃত করা হলোঃ

"[অধ্যাপক] ড্যানিয়েল থর্নার আমাকে বলেন, [ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সচিব] পি এন হাকসার পরদিন বেলা ১১টায় আমাদের ‘কফি খেতে ডেকেছেন’। আমি ধরে নিই, প্রকৃত আলোচনার সময় ততটা লম্বা না-ও হতে পারে। কাজেই আগের কয়েকটা দিন যেসব তথ্য ও সমীক্ষা সংগৃহীত হয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় রেখে তাজউদ্দীন যে কিছু জানতে চেয়েছিলেন, তার উপস্থাপন ফলপ্রসূ করার জন্য আমি গুছিয়ে নোট করে নিই।" []

প্রকাশিত বই

[সম্পাদনা]

মঈদুল হাসানের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুউল্লেখিত বই হচ্ছে মূলধারা '৭১। এছাড়াও তার আরও অনেক বই আছে। তার উল্লেখযোগ্য কিছু বইঃ[]

  • মুক্তিযুদ্ধে কসবা
  • উপধারা একাত্তর মার্চ-এপ্রিল
  • মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর (এ কে খন্দকার এবং এস আর মীর্জাকে সাথে নিয়ে লেখা)
  • মূলধারা '৭১
  • শব্দের পদ্মফুল[]

Post a Comment

0 Comments